"এসো ঈশ্বর" কবিতা- রাজনৈতিক হিংসা কতটা ভয়াবহ এই কবিতায় জানতে পারবেন।


 

এসো ঈশ্বর

মোরা দুই ভাই এক সাথে রই  কুঁড়ে ঘরে মাত্র দুটি ঘর
খুব ভোরে উঠি জনমজুর খাটি ঘরে ফিরি সন্ধ্যের পর
দিন চলে যায় দুঃখ কষ্টে হায় অপকর্মে কভু না থাকি
একদা প্রভাতে গ্রাম্য নেতা এসে বলে “শুনো হে দাশরথি
তোমাদের তরে বহু ভেবে ওরে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে
এতে লাভ তোর করবি না শোর তবে একটি শর্ত আছে
পাবি আড়াই লাখ বাজাও না ঢাক আমি ব্যবস্থা সব করব
ব্যাঙ্কে জমা হবে তোরা কুড়ি পাবে বাকিটাই আমি নেব”
শুনি তার কথা মনে পাই ব্যথা বলি “হুজুর এ কেমন কথা
কেন্দ্র দেবে টাকা আমি রব ফাঁকা আপনি তুলবেন ভাতা
এ দশ বছরে নিয়েছেন ভরে কোটি কোটি  টাকাকড়ি ঘরে
ছিলেন গরির হলেন আমীর তবু লোভ না দেখি মরে
এ বড় অন্যায় আমি অসহায়  তবু অসৎ কর্ম না হবে”
শুনি এই কথা মনে পায় ব্যথা বলে “ঠিক আছে দেখা যাবে”
মাস তিন পরে সাঁঝে ঘরে ফিরে খাওয়া দেওয়া শেষ হলে
ঘরে শিশু দুই মহিলাও তাই বিছানায় যাই সবে চলে
গভীর রাতেতে ঘুম ভেঙ্গে যেতে দেখি লেলিহান অগ্নিশিখা
মাটির দেওয়াল খড় দিয়ে চাল ধোঁয়ায় কিছু না যায় দেখা
শুনি শিশু কান্না কি করি অজানা চোখে দেখি সরষে ফুল
ঘরের কপাট  পুরানো সে কাঠ তুলে নিই হয়ে ব্যাকুল
দেওয়াল ধারে কাঠ রেখে পরে  বসে থাকি হাঁটু মুড়ে
পোড়ার যন্ত্রনা সে কি বেদনা সেই শুধুই জানে যে পুড়ে
মনে আসে কথা সতীদাহ প্রথা বালিকাদের দিত চিতায়
কুঁড়ি ফুলগুলি অকালে ঝরালি সমাজ নেতাদের কথায়
সব নেতাদলে ভোটের প্রাক্কালে হাতপা পর্যন্ত এসে ধরে
ভোটে  জিতলেই আর দেখা নাই তারা দানবের বেশে ঘোরে
রেশন লুটছে সম্পদ জুটছে বিত্তশালী হয়ে করে বড়াই
হায় এ পৃথিবী দেখি একি ছবি এর কোনো প্রতিকার নেই
শুনেছি আমরা পাপ করে যারা যমদুত তারে শাস্তি দেয়
দুষ্কৃতকারী পাপিষ্ঠদের ছাড়ি অসহায়দের ধরে নেয়
ধনশালী যারা বলশালী তারা যমদুত তাদের ভয় পায়
দুর্বল লোকেরা নিঃসহায় তারা তাদেরই নরকে পাঠায়
ওহে ভগবান দয়ার নিধান একি তোমার ভবের খেলা
সৎ সরলেরা ধর্মপথে তারা  চায় শান্তিতে কাটাতে বেলা
তাদের ঠকিয়ে আতঙ্ক ধরিয়ে মস্তান মধুরক্ত চুষে খায়
এত অতাাচার এত অবিচার তবু তুমি থাক নিরুপায়
আগুন কমলে বাহিরে বেরলে সব পুড়ে হয়েছে ছাই
মনে এল ত্রাস ছুটি উর্ধ্বশ্বাস প্রায় মাইল পাঁচেক যাই
ফাঁকা মাঠে গিয়ে  অচেতন হয়ে পড়েছিলাম পুকুর পাড়ে
চেতনা আসলে ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে দেখি রক্তিম রবি হাসে
স্নিগ্ধ বাতাস পাখি গান গায় প্রান্তর মিসেছে আকাশে
শান্ত প্রকৃতি মনোহর অতি পাখির গান বাতাসে ভাসে
মধু পরিবেশ যারা করে শেষ সমাজ করছে বিষাক্ত
ওগো ঈশ্বর তুমি অধীশ্বর আছ কেন নিরাসক্ত?
সুন্দর এ দেশ মধুর আবেশ দুর্বৃত্তরা আজ রাজ করে
ওগো ভগবান করুণা নিধান এখনো তুমি আছো নীরবে।।

 



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বুদ্ধিজীবী - সকলে নিজেকে ভাবেন বুদ্ধিজীবী কিন্তু আসলে কে বুদ্ধিজীবী, কবিতাটি পড়ে জানুন।

কানীন (কর্ণ ছিলেন কানীন)