পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দ্রৌপদীর প্রতিজ্ঞা- কবিতা- মহাভারত অবলম্বনে সমাজ।

ছবি
  দ্রৌপদীর প্রতিজ্ঞা সেই দ্বাপর যুগে তোমাকে বিবস্ত্র করেছিল যারা এখনও বীরদর্পে সুযোগ স্বার্থ খুঁজে বেড়ায় তারা দ্রৌপদী, তোমার সময়ে মহারাজা ছিলেন অন্ধ অন্যায় অনাচার দেখতে পেতেন না রাজা স্নেহান্ধ অমাত্যগন ভীষ্ম, দ্রোনাচার্য, কৃপাচার্য ও, বিদুর নিশ্চূপ, মাথা নিচু করে বসে ভয়ে রাজপুত্রের তারা রাজানুভোগী, উমেদার ও কৃপাপ্রার্থী স্বার্থবাদীর দল, মুখে বড় বড় কথা,নাই জাগর্তি অনেকের মাথায় ছিল রাজপুত্র দুর্যোধনের হাত সকলে বেপরোয়া, নির্মম দুর্দমনীয় ও বাজ্জাত রাজার আনুকুল্যে নির্ভয়ে করেছে হত্যা লুঠ ধর্ষন শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভাবের পরে হয়েছে তাদের বিসর্জন ধৃতরাষ্ট্রের মতো অকর্মন্য শাসক এখনও আছে তার আদেশে দুঃশাসনেরা কোমর বেঁধেছে কসে আজ এরাই চালায় ব্যভিচার, বিভীষিকা হত্যালীলা নিরীহ গরীর প্রজারা ভয়ে কুঁকুড়ে থাকে সারাবেলা হাতে যৎসামান্য পেলে মাথা নিচু, চুপ করে থাকে প্রতিবাদ করলে জতুগৃহ থেকে পারবে না পালাতে রাজার অমাত্য সৈন্য সামন্তের একমাত্র লক্ষ্য লুঠ                    ...

সীতা- কবিতা- রামায়ণ কাহিনী অবলম্বনে আধুনিক সমাজের ছায়া

ছবি
  সীতা ভারতের আদর্শ নারীর প্রতিভূ , ওগো সীতা জন্মের পরক্ষন থেকে মাতৃ স্নেহে হলে বঞ্চিতা অনুঢ়ার সন্তান হয়ে লোক লজ্জার ভয়ে ভীতা কিংবা কন্যা সন্তান বলে হলে নির্বাসিতা যদি না উদ্ধার না হতে রাজা জনক , জনিতা ভারত হারাত তার আদর্শ রত্ন দুহিতা সেই ধারা এখনও চলছে সমাজে কন্যা সন্তান হচ্ছে নির্যাতিতা সহজে ফাঁকা প্রান্তরে পরিত্যাগ করেছিল তোমার জননী আর্ত চিৎকার কি শুনেছিল সেই মায়াহীন গর্ভধারিনী ? এখনো প্রান্তরে , জঙ্গলে , জঞ্জালে তোমাকে মেলে হারিয়ে যায় অমুল্য সম্পদ অবহেলে কালের কপোলে , যুগে যুগে কালে কালে যদি তোমার বাঁচার অধিকার নাই দিলে তবে কেন বিধি তোমায় সৃজিল ধরাতলে ? দয়াময় রাজর্ষি জনক তোমাকে আশ্রয় দিলে রাজ নন্দনী ‘জানকী’ বলে পরিচিত হলে গোবরেও পদ্মফুল ফোটে তুমি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বটে যদিও তোমার নিজ পিতা মাতা করল বর্জন তুমি রুপে গুণে অন্যতম খ্যাতি করলে অর্জন প্রস্ফুটিত সুগন্ধি পুষ্পের মতো সুবাস ছড়ালে ভগবান শ্রীরাম হরধনু ভেঙ্গে তোমায় লভিলে ত্যাগে সমুজ্জ্বল , পতিব্রতা , হয়ে নিরাভরণ রাজসুখ ছেড়ে স্বামী সঙ্গে বনে করলে অনুগমন বছর বছর অরণ্য মধ্যে থেকে অবহেলে অশেষ কষ্ট তুমি...

"সূর্যমুখি" কবিতা । প্রেমের বর্ণময় বর্ননা।

                        সূর্যমুখি, পুষ্প কাননে একাগ্র মনে ফুলের মালাটি গাঁথ, কুসুম চয়নে পরম যতনে থালায় সাজিয়ে রাখ। মালতী মল্লিকা চাঁপা গোলাপ করবী টগর গাঁদা- লাল গোলাপী হলুদ বেগুনি বাদামী নীল ও সাদা।   পুষ্পের মাঝে তব মুখখানি ভাসে হয়ে সূর্যমুখি, তোমার এ শোভায় মন ভরে যায় পূর্ণ চন্দ্রমুখি। পুষ্প মাঝে তব আননখানি প্রেমময়ী, চিত্তহরনী গোলাপ না দেখি তোমাকেই দেখি প্রেরণাদায়িনী।   চাঁপা রঙে উজ্জ্বল দেহখানি, ঝলমল ভোরের আভা. আঁখিপাতা না ঝরে চেয়ে থাকি তোমারে মনোলোভা। তোমার এ রূপখানি হৃদয় জুড়াও তুমি চিত-চোর, তোমায় পাব না জানি অন্তরে রবে তুমি জীবনভর।   তোমার এ রূপ-সুধা অন্তরে দেবে শোভা চিরদিন. এর স্নিদ্ধ আলো সরাবে জীবনের কালো নিশিদিন।   চাই না পেতে শুধু থাক মনোজগতে আলোর শিখা. যদি তোমায় পাই ভয় রবে হারাই, হয়ে থাক বিদ্যুল্লিখা।।    

বিপ্লব- কবিতা- বিপ্লবের মধ্য দিয়েই সমাজকে সংশোধন করা যায়।

                    বিপ্লব ওগো লাঞ্ছিত নির্যাতিত, অত্যাচারিত মানব সন্তান অমৃতের পুত্র তোমরা গাও মহাকালের দীক্ষার গান শুরু হোক নটরাজের প্রলয় নাচন ধ্বসের রাগ বাজুক নবজাগরণের সুর, মুক্তির অনুরাগ গগন ভেদি কালপুরুষের অগ্নি-বাণ আসবে ছুটে বিঁধবে এসে বজ্রসম অত্যাচারীদের বুকে বিধ্বংসী রূপ, তিনি পরম সত্যের প্রতীক ধর্মপাল সাধকদের ধর্ম রক্ষক যেন গাণ্ডীব সুরলোক ভূলোক দ্যুলোকে ঝড়ের আহ্বানে কারার শৃঙ্খল ভেঙে মুখরিত কর মুক্তির গানে ধ্বংসের কারিগর শ্মশানভূমে থাকেন অধিষ্ঠিত অসুর বিনাশকারী সংরক্ষক যুগে যুগে আবির্ভূত ধরিত্রী আবার অসুর উৎপীড়নে জনগণ জর্জরিত এবার জেগেছে সংহারকর্তা ঐ শোনা যায় তূর্য নির্মম, নিষ্ঠুর দানব কুম্ভকর্ণের পতন অনিবার্য মহাকালের দীক্ষিত হয়ে তুলে নাও সত্যের অস্ত্র শৃঙ্খল ভাঙো, প্রলয়-অগ্নিতে অন্যায় কর ধ্বংস দুর্দ্দম দুর্ব্বার বেগে- ভেঙে করো সব চুরমার স্বৈরাচারীর অচলায়তন,বহ্নিতে কর ছারখার ছিনিয়ে নাও নিজ হাতে নিজের সকল অধিকার ঘূর্ণী ঝড় হয়ে চুর্ণ কর দুঃশাসনের অন...

"জমিদারের উইল" গল্প জমিদার হলেও মানুষকে লোভ কতটা নিচে নামাতে পারে এবং পাপের ঘড়া পূর্ণ হলে পতন নিশ্চিত, এই গল্পে পাবেন।

                                                     জমিদারের উইল ভারত স্বাধীনতা উওরকালীন বাংলায় হরিশচন্দ্রপুর গ্রামে অভিরাম রায় নামে এক জমিদার ছিলেন। তার জমিদারী ছোট হলেও তার সততা, বুদ্ধি ও প্রজাবাৎসলতার জন্য জমিদারীর আয় ভালোই ছিল। তিনি বিপদে আপদে প্রজাদের পাশে থাকতেন। সকল প্রজা তাঁকে সম্মানও করতো। যেহেতু অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচার ছিল না প্রজারা জমিদারের খাজনা সময়ে দিয়ে দিত। জমিদারও ইংরেজের রাজস্ব সয়ম মতো মিটিয়ে দিতেন। এই জমিদারীটি দূরবর্তী মফস্বলে অবস্থিত হওয়ায় বাইরের খবর এই অঞ্চলে খুব একটা ঢুকতো না। জনসাধারণর চাষ করেই সময় কেটে যেত। দেশের স্বাধীনতার সময়েই জমিদার মারা গেলেন। তাঁর দুই ছেলে, জয়রাম বড় ও বাবুরাম ছোটো। মরার আগে দুই ছেলেকে কাছে ডেকে বার বার বলতেন “দেখ, আমি কষ্টে জমিদারীর উন্নতি করেছি। তোমরা একসঙ্গে থাকবে ও প্রজাদের জুলুম করবে ...