মৃত্যু

   হে মৃত্যু তোমাকে প্রনাম করি বার বার

   ব্রহ্মান্ডের জন্মলগ্ন থেকে থাক অনিবার I

         জীর্ণ শীর্ণ পুরাতনে সরিয়ে দুরে

          নিয়ে আসছো নব নব কলবরে I

            নিরাশাকে দুর করে চিরতরে

             নুতন আশা ভরেছ অন্তরে I

প্রেরনাদায়ী মহাকাল, শিখিয়েছ হতে মহান

হৃদিপরে স্মৃতি রূপে রাখতে অক্ষয় সম্মান I

তুমিই লয়ে এসো নব নব অভিনব আকার

স্বর্গসুধা বর্ষণ করে, গ্রহন করেছ সকল বিকার I

তব ভয়ে ভীত মানব সৎ র্কমে হয় নিয়োজিত

নতুবা পাপ কর্ম জঞ্জালে এই ধরাতল গ্রাসিত I

নিয়ে যাও ব্যাধিগ্রস্ত শরীর ,নব আকার কর দান 

শমন, তব লাগি এত ভালোবাসা অন্তরে অন্তরে

এত আকর্ষণ প্রিয়জন প্রতি মানব হৃদয় গভীরে I

যুগে যুগে মুনি ঋষি করেছেন সুকঠোর তপস্যা

বৈজ্ঞানিকের চেষ্টায় পুরন করা যায় নি জিজীবিষা

তোমার গূঢ় তত্ত্বের তথ্য অনুসন্ধান করে গেছেন 

নচিকেতা রহস্য উন্মোচনে যমগৃহে গিয়েছিলেন I

তোমাকে জয় করতে মানব দানব হয়েছেন সচেষ্ট 

দেবদবীর আশীর্বাদ ধন্য হয়ে পুরন হয়নি অভিষ্ট I 

তবুও তারা অহংকার গর্বে আকাশে মাথা তুলেছে

তোমার অমোঘ অস্ত্রতে তাদের ও দর্প চুর্ণ হয়েছে I 

তুমি অহরহ থাক উজাগর প্রত্যেক মাথার উপরে

সময় হলেই নিয়ে যাও জীবকে তুমি অচিনপুরে I 

তোমারই জন্য জন্মমৃত্যু চক্রবৎ চলছে কালেতে 

আনন্দ লহরী হয়ে শিশুর আবির্ভাব মর্ত্তের ঘরেতে I

শৌর্য, বীর্য, চিরদুবির্নীত, সাহসে ভরপুর যৌবনকাল

সৌমকান্ত, জ্ঞানপ্রভ, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রৌঢ়কাল I 

মায়া মোহ সরিয়ে প্রস্তুত কর চিরবিদায় নেওয়া তরে

পুরাতন বিদায় ও নুতনের আনন্দ আসে বারে বারে।।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বুদ্ধিজীবী - সকলে নিজেকে ভাবেন বুদ্ধিজীবী কিন্তু আসলে কে বুদ্ধিজীবী, কবিতাটি পড়ে জানুন।

কানীন (কর্ণ ছিলেন কানীন)