গৌর ভক্ত


আমাদের গ্রামে রামদাস নামে ছিলেন এক বৈষ্ণব ,

সাধন ভজনে হরি সংকীর্ত্তনে বিলান তিনি সৌরভ I

অমায়িক তিনি অতি জ্ঞানী গুণী মনে নাই অহঙ্কার ,

অতি ভোরে উঠে স্নান করি ঘাটে গাঁথেন ফুলের হার I

অর্ধাঙ্গিনী তাঁর ভোগ রাধিবার করে যান আয়োজন,

দোঁহে মিলে তারা অন্ন পসরা পুজো হয় সমাপন I

প্রসাদের তরে যারা আসে ঘরে বিমুখ কেহ না হন ,

অতি ভক্তি ভরে প্রসাদ বিতরে ধন্য ধন্য সবে কন I

সন্ধ্যার সময় সংকীর্ত্তন হয় শ্রীমৎভাগবৎ পাঠ ,

ধর্ম প্রাণ জন সবে জড়ো হন গৃহ হয় জমজমাট I

সারা দেশ হতে নিমন্ত্রন আসে নিমাইকে নিয়ে যান ,

হরি মহোৎসব দেন দোঁহে যোগ চলে মহাধুমধাম I

মনে নেই দ্বেষ, হিংসা ঈর্ষা ক্লেশ সকলে হরির অংশ ,

লোভ নেই মনে ইচ্ছা নেই ধনে ধর্মে হন না ভ্রংশ I

অতি উপকারী নেই বাহাদুরি করুণার অবতার ,

ষড়রিপু  জয়ী  অতীব বিনয়ী করেন মিত আহার I

সর্ব জীবে দয়া  মোহ হীন কায়া সম্মানের নেই আশা ,

তাঁরা মিলে দোঁহে পুত্রবৎ স্নেহে গৌরকে সেবার নেশা I

মধু আচরন মধুর ভাষন মনে নেই কোনো পাপ ,

কিবা যে পেলেন কিবা না পেলেন নেই কোনো সন্তাপ I

হরি শরণাগত থকেন নিয়ত সত্য পথেই চলেন ,

সাধন পুজন চলে আরাধন নিজ কার্যেই থকেন I

গ্রাম জমিদার করেন বিচার পরীক্ষা করিবারে ,

চুপিচুপি গিয়ে কিছু টাকা নিয়ে রেখে এলেন দ্বারে I

খুব ভোরবেলা দ্বার হলে খোলা টাকাগুলো পড়ে আছে ,

এ টাকায় তাঁর নেই অধিকার দেবেন জমিদার কাছে I

মনেতে বিচার আসে বার বার এই টাকা তাঁর নয় ,

যান তাড়াতাড়ী জমিদার বাড়ী জোড় হাতে তিনি কন I

এই টাকাগুলো দ্বারে পড়েছিল আপনার হাতে দিলাম ,

জমিদার শুনে আনন্দিত মনে বলেন “ মুগ্ধ হলাম” ।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বুদ্ধিজীবী - সকলে নিজেকে ভাবেন বুদ্ধিজীবী কিন্তু আসলে কে বুদ্ধিজীবী, কবিতাটি পড়ে জানুন।

কানীন (কর্ণ ছিলেন কানীন)