জ্ঞানালোক

     জ্ঞান জগতে এক রহস্যময় বিষয়

কতকিছু জানার আছে জানার নেই সময়

জ্ঞানের সাগর থেকে দুরূহ রত্ন তুলে আনা

সাগরে ভুবা আর মাণিক্য তোলা একই না

পুস্তকে লেখা বিদ্যা আর পরের হাতে সম্পদ

সময়ে কাজে লাগে না দুইটিই সমান আপদ

অনেক উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি আছেন এ ধরাতে

কর্ণের মতো বিদ্যা পারেন না প্রয়োগ করতে

 বিদ্যার অপ্রয়োগ করলে কিবাই তার পূণ্য

বিদ্যা পেটে গজ গজ কিন্তু প্রজ্ঞা তার শূণ্য

সেই বিদ্যা অন্ধের সামনে আয়নার সমান

প্রজ্ঞা ব্যতিত বিদ্যা কভু করে না কিছু দান

এক কচ্ছপের জ্ঞান লাভ করার  ইচ্ছা হলো

সে পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান সংগ্রহ করে নিল

জ্ঞান এক ফাঁকা লাউরের মধ্যে করলো জমা

 তার মাথার মধ্যে এক দুশ্চিন্তা বাঁধল দানা

সে কতনা কষ্ট করে জ্ঞান অর্জন করলো

যদি চুরি হয়ে যায় তার এই সম্পদ অমূল্য

 লাউকে বড়গাছের মগডালে রাখবে ভাবলো

সে লাউকে পেটে বেঁধে গাছে উঠতে গেল

পেটে লাউ থাকায় কচ্ছপ নীচে গেল পড়ে

সমস্ত জ্ঞান ছড়িয়ে গেল কচ্ছপ গেল মরে

কচ্ছপের বিদ্যা থাকলেও  ছিলনা তার প্রজ্ঞা

একজনের দ্বারা অর্জন অসম্ভব সমস্ত জ্ঞান

 

               পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী বলেছিলেন

জ্ঞান সাগরের তীরে একটি নুড়ি কুড়াচ্ছেন

একজন সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না

অনেক মহাপুরুষ প্রথাগত শিক্ষা পান না

      প্রজ্ঞার প্রভাবে তাঁরা পেয়েছেন সম্মান

শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের ছিল না অক্ষর জ্ঞা্ন

      তাঁর উপদেশ প্রজ্ঞায় ভরা অবশ্য দর্শন

শিক্ষার উদ্দেশ্যই জীবনযুদ্ধের ক্ষমতা অর্জন

পুথিবিদ্যা মুখস্থ করে সারা জীবন বড়াই করে

নেই প্রয়োগ কৌশল, পন্ডিতের ধ্বজা ধরে

  আসল পণ্ডিতেরা করেন না ঢক্কা নিনাদ

   ভরা কলসি থেকে শুনতে পাই না নাদ ।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা বুদ্ধিজীবী - সকলে নিজেকে ভাবেন বুদ্ধিজীবী কিন্তু আসলে কে বুদ্ধিজীবী, কবিতাটি পড়ে জানুন।

কানীন (কর্ণ ছিলেন কানীন)